মুসলিম মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টন ইসলামি শরিয়া আইন অনুযায়ী হয়, এবং এর মূল ভিত্তি হলো কুরআন, হাদীস এবং ফিকহ। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনকে আরবি ভাষায় বলা হয় "ফরায়েজ" (الفرائض)।
নিচে মূল নিয়মগুলো ধাপে ধাপে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।
✅ ১. সম্পত্তি বণ্টনের পূর্বে যা করতে হবে:
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের আগে নিচের খরচগুলো বাদ দিতে হয়:
1. কাফন-দাফনের খরচ
2. ঋণ পরিশোধ
3. ওসিয়ত (Wasiyat) – যদি কোনো বৈধ ওসিয়ত থাকে (সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ পর্যন্ত এবং উত্তরাধিকারীদের জন্য নয়)
এরপর যা থাকে, সেটি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
উত্তরাধিকারীদের দুটি ভাগ:
১. 📌 ফরযদার (নির্ধারিত অংশভোগী)
যাদের নির্দিষ্ট অংশ কুরআনে নির্ধারিত:
স্ত্রী / স্বামী
পুত্র / কন্যা
পিতা / মাতা
দাদা / দাদি (বিশেষ ক্ষেত্রে)
যখন মূল ফরযদাররা (স্ত্রী/স্বামী, পিতা-মাতা, সন্তান) কেউ না থাকে, তখন সম্পত্তি যাবে:
২. 📌 আছাবা (قريب العصبة) — নিকট আত্মীয়দের মধ্যে পুরুষেরা
যেমন:
ভাই (পূর্ণ ভাই, সৎ ভাই)
ভাতিজা (ভাইয়ের পুত্র)
চাচা (পিতা’র ভাই)
চাচাতো ভাই (পিতৃকুল)
দাদা (পিতা না থাকলে)
নাতি (পুত্র না থাকলে)
এদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটতম আত্মীয়কে দেওয়া হয়।
✅ যদি কোনো আছাবা পুরুষ আত্মীয় না থাকে, তাহলে:
➤ সম্পত্তি যাবে ذوي الأرحام (দূর আত্মীয়) এর কাছে:
যেমন:
খালা
মামা
ফুফু
খালাতো/ফুফাতো/মামাতো ভাই/বোন
🔸 এদের মধ্যে শরীয়তের নির্ধারিত দূর সম্পর্ক অনুযায়ী অংশ নির্ধারণ করা হয় (বিতর্কিত ও মাযহাবভেদে ভিন্ন হতে পারে)।
✅ যদি কোনো আত্মীয়ই না থাকে:
রাষ্ট্র (সরকার/বায়তুল মাল) উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পত্তি গ্রহণ করে।
তবে এটা মূলত ইসলামী রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
মুসলিম সম্পত্তি বণ্টন ক্যালকুলেটর
আগস্ট ২৮, ২০২৫
